শিশুদের সালাতে অভ্যস্ত করা

শিশুদের সালাতে অভ্যস্ত করা

সলাতকে বলা হয় ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ। হাশরের ময়দানে সর্ব প্রথম হিসাব নেওয়া হবে সলাতের। সুরা আনকাবুতে আল্লাহ্‌ তা’লা বলেছেন, “নিশ্চয়ই সলাত অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।” সন্তানদের সাতবছর বয়স থেকে সলাতের তাগিদ দিতে বলা হয়েছে, এবং দশ বছর থেকে সলাতে গাফিলতি করতে দেখলে শাসন করতে বলা হয়েছে। সন্তানদের সলাতে আগ্রহী করতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে–

১। দুয়া: ইব্রাহীম আলাহিস সালাম দুয়া করতেন তাঁর সন্তানদের জন্য- “হে আমার রব্ব, আমাকে সলাহ প্রতিষ্ঠাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন, আর আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমার রব্ব, এবং কবুল করুন আমাদের দু’আ।” (সুরা ইব্রাহীম,৪০) এই একই দু’আ আমরাও করতে পারি আমাদের সন্তানদের জন্য।

২। পরিবেশ: ঘরে সলাতের পরিবেশ তৈরি করুন। বাসায় বড়রা সলাতে গাফিলতি করলে ছোটরা এর গুরুত্ব বুঝবে না, এটাই স্বাভাবিক। সন্তান যদি দেখে আযান দিলেই বাবা ওজু করে মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, মা আউয়াল ওয়াক্তে সলাহ পড়ছেন তবে সন্তানও এর গুরুত্ব বুঝবে ইন শা আল্লাহ্‌। সুযোগ থাকলে ঘরে একটি কক্ষ আলাদা রাখতে পারেন সলাত আদায় করার জন্য। যেখানে জায়নামাজ, কুরআন –হাদিস ও দ্বীনের বই থাকবে।

৩। পোষাক ও আনুষাংগিক: মেয়ে সন্তানকে সুন্দর রঙ্গিন খিমার বানিয়ে দিতে পারেন। ছেলে সন্তানকে সুন্দর জোব্বা, কাজ করা টুপি দিতে পারেন। দ্বীনি লিবাসে তাকে কত পবিত্র দেখাচ্ছে এমন প্রশংসা করুন।

৪। অল্প অল্প করে: প্রথমেই পাঁচ ওয়াক্ত সলাহ দিয়ে শুরু না করে এক একটা ওয়াক্ত পড়ার অভ্যাস করুন। মাগরিবের ওয়াক্তে সলাতের রাকাত সংখ্যাও কম আবার সময়টাও খুব সকাল বা রাত নয়। এই ওয়াক্ত দিয়ে শুরু করুন। প্রথমে ফরজগুলো পড়ার তাগিদ দিন। অভ্যাস হয়ে গেলে সুন্নাতের অভ্যাস করতে পারেন।

৫।পুরষ্কার ও শাসন: ‘একমাস সবগুলো সালাহ পড়লে, অথবা সবগুলো সলাত জামাতের সাথে আদায় করলে অথবা আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করলে তোমাকে একটা সাইকেল দেওয়া হবে, তোমাকে তোমার পছন্দের জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হবে’ এভাবে পুরষ্কারের মাধ্যমে ওদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন।

এভাবে সাত বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত আমরা সন্তানদের সলাতে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করে যাবো। এবং দশ বছর থেকে যদি আল্লাহ্‌ না করুন, ওরা সলাতে গাফিলতি দেখায়, তবেই শাসন করব। আমরা যেন অন্যকোন কাজের ফ্রাস্ট্রেশন, চাকরির ঝঞ্ঝাট, মানসিক স্ট্রেসের বহিঃপ্রকাশ সেই শাসনে প্রকাশ না করি। আমাদের অধিনস্তদের উপর করা আচরণগুলো জুলুম নাকি শাসন তা আমরা স্বীকার করি আর না করি আমাদের হৃদয়ের মালিক কিন্তু সেই খবর ভালো ভাবে রাখেন।

আমরা যেন আমাদের দায়িত্বের ক্ষেত্রে , এবং অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় পাই।

Leave a Reply