অদৃশ্য জগত

আল্লাহর দরকার ছিল না কাউকে। পৃথিবীকেও না, আসমানকেও না। সূর্যকেও না, চাঁদ-তারাকেও না। তবে তিনি যা চান তা-ই করতে পারেন। তিনিই একবার ভাবলেন আসমান আর জমিনের কথা। আসমান আর জমিন বানানোর কথা। কিছু দিনের জন্য বানাবেন। কিছু কাজ হয়ে গেলে আবার ভেঙে ফেলবেন। কিন্তু কি সেই মহান কাজ? কি এমন কাজ যার জন্য এতো বিশাল পৃথিবী আর সাত আসমান বানাবেন?

সেই মহা কাজের গল্পই আসছে সামনে, ইন শা আল্লাহ।

শুরুতেই আল্লাহ বানালেন পৃথিবীটাকে। পায়ের নিচের গোল এই পৃথিবীটার আরেক নাম দুনিয়া। আল্লাহর ইচ্ছায় মাত্র ২ দিনেই দুনিয়া তৈরি হয়ে গেলো। তবে আল্লাহর পক্ষে তা এক মুহূর্তেই করা ফেলা কোনো ব্যাপারই ছিল না। যা-ই হোক, দুনিয়াটাকে তো এবার সাজাতে হবে। আর তাই, দুনিয়ার উপর বসালেন পাহাড়-পর্বত, গাছপালা ছাড়াও আরো কত কী! গেলো আরো ২ দিন। দুনিয়াটাকে দেখতে লাগে বিশাল! কোথাও তার ধু ধু মরুভূমি। দুই একটা চড়ে বেড়ানো উট ছাড়া হয়ত আর কিচ্ছু নাই। কোথাও আবার শুধু বরফ আর বরফ। এই বরফ রাজ্যে ঘুরে বেড়ায় পেংগুইন আর সাদা ভাল্লুক। তবে মাটির চেয়ে পৃথিবীটাতে পানি-ই বেশি। বিশাল বিশাল সব সমুদ্র আর নদী। সমুদ্রগুলো এতো গভীর নিচে সূর্যের আলোও পৌছায় না। ঘুটঘুটে অন্ধকার। তাতেও থাকে নানা রকমের প্রাণী আর মাছ। সব মিলিয়ে দুনিয়া হয়ে গেলো এক চমৎকার জায়গা। কত অদ্ভূত সব জন্তু-জানোয়ার। কেউ জন্ম থেকেই উড়তে পারে। কেউ জন্মের পরেই সাতার কাঁটে। ময়লা মাটি থেকে বের হয় মিষ্টি মজার ফল।

দুনিয়ার পর এবার আসমান বানানোর পালা। আল্লাহর হুকুমে আসমান তৈরিও হয়ে গেলো। তবে একটা আসমান না। এক সাথে জড়ানো সাতটি আসমান। কিছু পরেই এরা আলাদা আলাদা হয়ে গেলো। হয়ে গেলো সাত আসমান। আসমানে বানাতে গেলো আরো ২ দিন। এই সময়ে আল্লাহ আসমানগুলোকে গ্রহ, চাঁদ, সূর্য আর তারা দিয়ে সাজিয়ে দিলেন। মাথার উপরের আকাশ, চাঁদ, সূর্য, তারা এইগুলোকে একসাথে বলে ‘মহাবিশ্ব’। আগুনের টুকরা সূর্যমামা কিন্তু অনেক বড়। পৃথিবী থেকেও লাখ লাখ গুণ বড়। অনেক দূরে তো তিনি, তাই দেখতে লাগে ছোট্ট লাইটের মত। তিনি কিন্তু আগুনে পুড়েই যাচ্ছেন, সব সময়ই। আর তাই তিনি অনেক গরম। কাছে যাওয়াই সম্ভব না। রাতের আকাশে ছোট ছোট অনেক তারা দেখা যায়। এই তারা গুলোও সূর্যের মত পুড়ছে। আজব বিষয় হচ্ছে, এরা কিন্তু সূর্য থেকেও অনেক অনেক বড়। তবে এরা আমাদের থেকে অনেক অনেক দূরে। তাই তারাদের দেখায় ছোট্ট।

এই মহাবিশ্বের বাইরেও কিন্তু রয়েছে আরো বিশাল জগত। তাই মহাবিশ্বের আরেক নাম ‘প্রথম আসমান’। কত বড় এই ‘প্রথম আসমান’? একটা পাখি আলোর চেয়ে জোরে উড়লে কি এর শেষ মাথায় যেতে পারবে?

পারবে না, সারা জীবন উড়লেও না। কল্পনা করাও কঠিন কত বিশাল সেই আসমান। এই প্রথম আসমানের বাহিরে রয়েছে দ্বিতীয় আসমান। সে আরেক জগত। আছে সেখানে অনেক অজানা কিছু। এতো বিশাল সেই দ্বিতীয় আসমান যে তার তুলনায় প্রথম আসমান কিছুই না। এইভাবে রয়েছে মোট সাতটি আসমান।
সাত আসমানের এক বিশাল জগত। এর উপরে রয়েছে আল্লাহর কুরসী। এই কুরসী কত বড়? কুরসীর মধ্যে যদি এক এক করে সাতটি আসমান রেখে দেই, কেমন লাগবে?

মনে হবে একটি প্লেইটের মধ্যে যেনো সাতটি পয়সা রাখা হয়েছে! এতোই বিশাল আল্লাহর কুরসী! তবে কুরসী-ই সৃষ্টির শেষ সীমা নয়। কুরসীরও উপরে রয়েছে আল্লাহর আরশ। লাল ইয়াকুত দিয়ে তৈরি সেই আরশ অতি অতি বিশাল। ধু ধু মরুভূমির মাঝে যদি একটি লোহার আংটি ছুড়ে ফেলি। খোঁজে পাওয়া যাবে সেই আংটি?

প্রশ্নই আসে না। বিশাল আরশের মধ্যে কুরসীও ঠিক তেমন। ধূ ধূ প্রান্তরে ছুড়ে ফেলা একটি লোহার আংটির চেয়ে বেশী কিছু নয়। আরশ-ই সৃষ্টির শেষ সীমা। তারও উপরে আছেন আমাদের রব আল্লাহ। তিন সবচেয়ে বড়।


  1. সূরা হা-মীম আস-সাজদা ৪১: ৯
  2. সূরা হা-মীম আস-সাজদা ৪১: ১২
  3. আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১ম ক্ষন্ড, পৃ-৬০
  4. সূরা আল-বাকারাহ ২: ৩০